রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

বাদামের গুনাগুন


রাস্তায় চলতে চলতে, পার্কে বসে, যানজটের অস্বস্তিতে কিংবা অবসরে সময় কাটানোর জন্য বাদাম চিবুতে ভালোই লাগে। দুই, তিন, চার কিংবা পাঁচ টাকার বাদাম পকেটে নিয়ে বা ঠোঙায় ভরে দিলে, খেতে কতক্ষণ। এক ঠোঙা বাদাম, দেখতেই তো খুব সামান্য! কিন্তু এই এক ঠোঙা বাদামের যে কত পুষ্টিগুণ, তা নিয়ে গবেষণার আগে মুখে আরো কয়েকটা বাদাম নিয়ে আয়েশ করে চিবুতে চিবুতে ভাবা যেতে পারে। এতে সময় নষ্ট না, বরং লাভই হবে। আসুন জেনে নেয়া যাক সেই সব লাভ এবং গুণাগুণগুলো-

· বাদাম হলো ভিটামিন ই’র সবচেযে বড় উৎস। এতে আরো আছে ম্যাঙ্গানিজ এবং প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। এইসব উপদান দেহের শক্তি বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূরে করে।

· আঙ্গুরে এক ধরনের ফেনোলিক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। যা হৃদরোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে আঙ্গুর খাওয়ার কথা ভাবার আগে অনেককেই মাসের বাজেট নিয়ে আগে ভাবতে হয়। কারণ নিয়মিত আঙ্গুরের মতো দামী ফল কেনা এবং খাওয়াটা মধ্যবিত্তদের জন্য একটু কঠিন। কিন্তু তাতে কি! নিয়মিত আঙ্গুর না হোক, বাদাম তো হতে পারে। কারণ, বাদামে সেই ফেনোলিক অ্যান্টি অক্সিডেন্টই আছে যা আঙ্গুরে থাকে।

· বাদামে আছে মনোআনসেটারেটেড ফ্যাট। এই ফ্যাটকে বলা হয় ‘গুড ফ্যাট’। দেহের ‘ব্যাড কোলেস্টেরেল’ (এলডিএল) কমাতে সাহায্য করে বলে এই ফ্যাটকে ‘গুড’ বলা হয়। তাই বলা যায়, বাদাম খেলে দেহে বাড়বে ‘গুড ফ্যট’, কমবে ‘ব্যাড কোলেস্টোরেল’।

· ফাইবার পেটকে পরিষ্কার রাখে এবং হজমশক্তিকেও সক্রিয় রাখে। বাদামে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার।

· নিয়মিত খাদ্য তালিকায় বাদাম থাকলে কোলন ক্যান্সার আপনার কছেও আসতে পারবে না।

· বয়স যত বাড়ে দাঁত এবং হাড়ের বিভিন্ন সমস্যাও বাড়তে থাকে। ক্ষয় হতে শুরু করে হাড় এবং শখের শুভ্র সুন্দর দাঁত। কিন্তু বাদাম খেলে খুব সহজেই এড়িয়ে চলা যাবে এই সমস্যাগুলো। কারণ বাদামে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি আছে। এটা বাত থেকেও আমাদের দূরে রাখে।

কিন্তু এতো সব গুণের মধ্যে মনে রাখতে হবে, যদি বাদামে কারো এ্যালার্জি থাকে তাহলে এর কাছেও ঘেঁষা যাবে না। দূরে থাকতে হবে বাদাম থেকে।
***বার্তা২৪ ডটনেট***

শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০১১

পেয়াররা গুনাগুন~~~~



আমরা প্রায় সকলে জানি আপেলে ভিটামিন ‘সি’ আছে। আমরা এও জানি যে পেয়ারাতে ভিটামি ‘সি’ আছে। কিন্‌তু আমরা অনেকে জানি না যে এদুটি ফলের কোনটিতে কি পরিমান ভিটামিন ‘সি’ আছে।



খাবার যোগ্য ১০০ গ্রাম আপেলের মধ্যে ভিটামিন ‘সি’ এর পরিমান ৪০ আই,ইউ আর্ন্তজাতিক একক), এবং একই পরিমান পেয়ারার মধ্যে অর্থাৎ ১০০ গ্রাম খাবার যোগ্য পেয়ারার মধ্যে ভিটামিন ‘সি’ এর পরিমান ৬০০ আই, ইউ।



আপেলের পরিবর্তে পেয়ারা খেলে আমারা কী পরিমান লাভবান হব তা একটু হিসাব করে দেখা যাক।



এক কেজি আপেলের মূল্য ১২০ টাকা হলে ১০০ গ্রামের আপেলে দাম পড়ে ১২ টাকা। অর্থাৎ ৪০ আই,ইউ (আন্‌তজর্াতিক একক) ভিটামিন ‘সি’ এর মূল্য ১২ টাকা।



এক কেজি পেয়ারার মূল্য ২০ টাকা হলে ১০০ গ্রাম পেয়ারার দাম পড়ে ২ টাকা। অর্থাৎ ৬০০ আই,ইউ (আর্ন্তজাতিক একক) ভিটামিন ‘সি’ এর মূল্য ২ টাকা।



এবার আমরা যদি আপেলের পরিবর্তে পেয়ারা খাই তা হলে-



(অংক কষে দেখা যাক)



পেয়ারার ক্ষেত্রেঃ

২ টাকায় পাই ৬০০ আই,ইউ ভিটামিন ‘সি’

১ টাকায় পাই (৬০০/২=) ৩০০ আই,ইউ ভিটামিন ‘সি’

১২ টাকায় পাই (৩০০*১২=) ৩৬০০ আই,ইউ ভিটামিন ‘সি’



কিন' আপেলের ক্ষেত্রে আমরা আগেই দেখেছি ১২ টাকায় ৪০ আই,ইউ ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়।



অর্থাৎ ১০০ গ্রাম আপেল না খেয়ে ঐ পরিমান পেয়ারা খেলে

ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণের দিক থেকে পরিমানে (৬০০/৪০=) ১৫ গুন ঠকে যাই।

মূল্যের দিক থেকে (১২/২=) ৬ গুন ঠকে যাই।

তা হলে পেয়ারা না খেয়ে আপেল খেলে আমরা সার্বিকভাবে (১৫*৬=) ৯০ গুন ঠকে যাই।

অর্থাৎ ৯০ টাকার আপেলে যে পরিমান ভিটামিন ‘সি’ পাবো তা আমরা ১ টাকার পেয়ারাতে পাবো।



সত্যি সত্যি এ হিসাবটা সকলের জানা দরকার।

বিদ্রঃ ব্লগার "জাগ্রত চেতনা" এর ব্লগ থেকে নেওয়া।

পানি কি ভাবে আমাদের কিডনি এবং যকৃতের কাজ করে~! আসুন দেখি।




পানি খেলে ক্ষুধা কমে, এটা সবার জানা। আর প্রতিদিন আট গ্লাস করে পানি খেলে কমবে অতিরিক্ত মেদ, কমবে ওজন। এর কারণ হিসেবে গকেষকরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত পানি ছাড়া কিডনি ভালো মতো কাজ চালাতে পারে না। যখন কিডনি তার স্বাভাবিক কাজ গুলো করতে পারে না, তখন এর কিছু কাজ করতে হয় যকৃৎকে। এদিকে যকৃতের কাজ হলো বিপাক ক্রিয়ায় খাদ্য এবং চর্বিগুলো শোষণ করে তা দেহের শক্তিতে রূপান্তরিত করা।



কিন্তু যকৃৎ যদি কিডনির কাজ গুলো করতে থাকে, তাহলে যকৃতের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হবে। অর্থাৎ, যকৃৎ খাদ্য ও চর্বি বিপাকের কাজ ঠিক মতো করতে পারবে না। এরফলে চর্বি গুলো শক্তিতে রূপান্তরিত না হয়ে তা দেহে জমতে থাকবে এবং বাড়বে স্থূলতা।



এই জটিল সমস্যা এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বেশি করে পানি পান করা। এরফলে কিডনি থাকবে সচল, সে করবে তার কাজ এবং যকৃতের কাজেও ঘটবে না কোনো ব্যাঘাত।



কিন্তু, এখন প্রশ্ন হলো কতটুকু পানি প্রতিদিন চায় আমাদের কিডনি? গবেষকরা এর উত্তরও বলে দিয়েছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস করে পানি পান করতে হবে। এর বেশি পান করলেও কোনো সমস্যা নেই। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং গরমের সময় আট গ্লাস পানির চেয়ে বেশি পান করা অনেক জরুরি।



কারণ, পানি যত বেশি পান করা যাবে দেহের জন্য তা ততই ভালো। পানি ওজন কমানোর পাশাপাশি দূর করে কোষ্ঠকাঠিন্য, চর্ম রোগ, হজম সমস্যা সহ আরো অনেক রোগ। এক কথায় বলা যায, সব রোগের পথ্যই এই পানি।

সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১১

বয়স নিয়ে ভাবনা , আর-না আর-না



এদানিং আমার মাঝে বয়স নিয়ে কেমন একটা অস্থিরতা কাজ করছে। কেবলে-ই মনে হয় তারুণ্যের উদ্দাম বুঝি আমার কাছ থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছে, আমি ক্রমেই বয়স্কদের দলে ভিড়ে যাচ্ছি। এক কথায় বার্ধক্য যাকে বলে। "বার্ধক্য" এই শব্দটি মন খারাপ করা একটি শব্দ। শব্দটি কানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে চোখের সামনে ভেসে ওঠে কুঁচকানো চামড়া আর বয়সের ভারে বাঁকা হতে শুরু করা হাড়গোড়ের থুত্থুড়ে কাঠামোর ছবি। এ ছবি দেখামাত্র মনে হয়, সারা জীবনের কাজের ঘানি টানার ক্লান্তি ও অবশিষ্ট জীবনের অনিশ্চয়তার চাপে পিষ্ট কোনও দুর্ভাগা যেন চোখের সামনে মূর্ত হয়ে উঠেছে_যার মনে কোনও শান্তি নেই, নেই বিন্দুমাত্র সুখ যা তার চোখে-মুখেও ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে যৌবনে কিংবা কৈশোরে আমরা এমন ই ভাবি,অন্যরা কিভাবে ভাবে তা জানিনা, অন্তত আমার বেলায় তাই মনে হয়েছে।
কিন্তু এখন আর সে রকম ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে,জীবনের অন্তত অর্ধশত বছর পেরিয়ে আসা কোনও মানুষকে দেখে যাদের মনে এমন চিত্র চিত্রিত হয়, তাদের চিত্রপট নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে। গবেষকরা বলেন, বার্ধক্য মানুষকে অসুখী করে না, বরং বার্ধক্যেই মানুষের সুখ শুরু হয়। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে সুখী অনুভব করার প্রবণতা। এটা শুনেতো আমার মনে ভরা বর্ষার পুঠি মাছের পাখায় সদ্য রঙ লাগানোর মত মনে রঙ লেগেছে।
জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, মোটামুটি ৫০ বছর বয়সই হলেই বার্ধক্যের শুরু। এ সময়ে বা এর কাছাকাছিতে বেশির ভাগ মানুষ অবসরে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সারা জীবনের কর্ম-ক্লান্তি ও স্বল্প বা বিনা পেনশনে হঠাৎ এ অবসর, সর্বোপরি বার্ধক্য_সব মিলে এ মানুষদের অসুখী ভাবাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, বুড়োরা অসুখী_বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রচলিত এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। বরং এ বয়সে এসে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভঙ্গি তৈরি হয়। এ সময় তারা সব কিছু সম্পর্কে নতুন করে ও নতুনভাবে ভাবতে পারে। এ ছাড়া দেখা গেছে, অবসর বিষয়টিকে বেশির ভাগ মানুষই বেশ ইতিবাচক-ভাবে গ্রহণ করে এবং তা উপভোগ করে। এ সময়টিকে তারা একেবারেই নিজেদের মতো করে ও নিজেদের জন্য ব্যবহার করতে পারে, যা যুবক বা তরুণ বয়সে সম্ভব ছিল না। ফলে এ সময়টিতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় থাকে।
গবেষক-দলের সদস্য ড. রবার্ট ম্যাককেফরি জানান, পঞ্চাশে মানুষের বার্ধক্য ও নিজেকে সুখী ভাবার প্রবণতা শুরু হয়। ষাট ও সত্তরের কোটায় গিয়ে তা আরও বাড়ে। এ বয়সের মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, ‘আমি অনেক সুখী’, ‘আমি জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট’ বা ‘আমি অতিরিক্ত রকমের সুখী’_এ ধরনের বোধ মানুষ তার বার্ধক্যেই অনুভব করে। অপেক্ষাকৃত কম বয়সের মানুষদের মধ্যে এ ধরনের বোধ বা এর প্রকাশ একেবারেই দুর্লভ।
গবেষকরা জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, বার্ধক্যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবনার প্রবণতাও বাড়তে থাকে। ফলে সব কিছুকে ভালো চোখে দেখা ও সহজভাবে নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের বাড়ে। এতে নিজের অবস্থান সম্পর্কেও তাদের মধ্যে সন্তুষ্টি কাজ করে। এ থেকে মানুষের মস্তিষ্কের কাজ করার ধরনের ওপর আরও তথ্য পাওয়া গেল। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আসলে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর ওপর শরীর-স্বাস্থ্য ও সুখী বা অসুখী হওয়া_অনেক কিছুই নির্ভর করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইতিবাচকতার ওপর জোর দেওয়া। সূত্র : দ্য ডেইলি মেইল অনলাইন।

স্লিম থাকতে টমেটোর গুন~~~~!!



স্লিম থাকতে টমেটো
ছিপছিপে থাকতে রোজ টমেটো খাওয়া ভালো। টমেটো ভিটামিন-সি ভরপুর। হূিপণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। টমেটো বা টমেটোর জুস খেলে কয়েক সপ্তাহের ভেতর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। হালে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আর একটি তথ্য। তথ্যটি হলো, সম্প্রতি ডেইলি মেল পত্রিকার এক প্রতিবেদনে, টমেটো খেলে বাড়তি ওজন লাঘব হয় বলে দাবি করা হয়েছে। কারণ টমেটোর এমন কিছু যৌগ আছে যেগুলি খিদে বাড়ানোর হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন ঘটায়। খাই খাই ভাবকে
দূরে রাখে। ফলে বাড়তি খাওয়ার ইচ্ছা কমে। যদিও এর পেছনে কোন উপাদান সক্রিয় জানা যায় নি। অনুমান লাইকোশেন, যার জন্য টমোটো লাল দেখায় সেই উপাদানের এখানে ভূমিকা আছে।

সোমবার, ১৩ জুন, ২০১১

হার্টের কথা জানি, কতটুকু জানি~!!



হার্ট স্মার্ট বলে কথা। হার্ট সম্পর্কে অনেকেই জানেন অনেক কিছু। আবার কিছু কিছু জিনিস জানার বাইরেও রয়ে যায়।
* কেউ বলেন, হার্ট অ্যাটাকের সময় হূদ্স্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়, এটা ঠিক নয়। হার্ট অ্যাটাকের সময় হূদ্যন্ত্র স্পন্দিত হতে থাকে, তবে হার্টের টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ রোধ হয়; মৃত্যু ঘটে টিস্যুর। আর হার্ট হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দিলে একে বলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।
* হার্ট অ্যাটাকে নারীদের চেয়ে পুরুষের মৃত্যু বেশি হয়, এ-ও ঠিক নয়। পুরুষের ক্ষেত্রে অবশ্য এটি দেখা দেয় আগে। কিন্তু ঋতুবন্ধের পর নারীরা বেশ কাবু হন হূদেরাগে, মৃত্যু হয়ও এতে। তাই প্রায় সমান বিপর্যয় ঘটে বললেই ঠিক হবে। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ১ নম্বর ঘাতক হলো হূদেরাগ। এরপর স্তন ক্যানসার।
* হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এমন সন্দেহ হলে দেরি করা ঠিক নয়। শুয়ে-বসে বা বিশ্রাম নিয়ে সময় কাটানো বোকামি। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকা উচিত।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নিয়ে নানা কথা যদিও হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে সচরাচর উপসর্গ হলো বুক ব্যথা বা অস্বস্তি। তবে এটি সব সময় একমাত্র উপসর্গ নয়। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব, ঘাম হওয়া, মাথা হালকা লাগা, শরীরের ওপরের অংশে যেমন—পিঠ, পেট, গলা, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।
 ‘মন ভেঙে গেলে হার্টেও ভাঙন’—এটি কেবল কথার কথা। ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’ সমস্যা বটে।মানুষের মনে শোক, দুঃখ এসব থেকে হার্টের সমস্যা হয়। মনের প্রচণ্ড ক্ষোভ, দুঃখ এসবের কারণে সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র হয় উদ্দীপ্ত। ‘লড়াই করো, নয়তো পালিয়ে যাও’—এমন বোধ হয় শরীরে। হঠাৎ করে রাসায়নিক বস্তু যেমন—এড্রিনালিনের প্লাবন বয়, স্তব্ধ হয় হূদেপশি: সাময়িকভাবে হার্ট পাম্প করতে পারে না। উপসর্গ একরকম হলেও হার্ট অ্যাটাক নয় এটি। সুসংবাদ হলো, হূদ্যন্ত্র সহজেই উতরে যেতে পারে এ দুর্যোগ।
বেশ কয়েকটি কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে। যেমন: স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, উচ্চমানের কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও শরীরচর্চা না করা।
পথ্যবিধি একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে প্রচলিত খাদ্যবিধি হূদেরাগের ঝুঁকি কমাতে ফলপ্রসূ। ২০০৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ২৯ শতাংশ ঝুঁকি এতে হ্রাস পায়। রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল মানের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
শরীর খুব পাতলা, সঠিক খাই, ব্যায়াম করি—এ জন্য হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি একেবারে নেই, তা বলা যাবে না। তবে এতে ঝুঁকি অনেক কমে, তা ঠিক। তাই এমন জীবনাচরণ হলো হূদ্বান্ধব।
লবণ খাওয়া কমালে হূদেরাগের ঝুঁকি বেশ কমানো যায়। দিনে এক হাজার ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ কখনো নয়। ভিটামিন-ই ও ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট এখনো প্রমাণিত হিতকারী নয়। প্রাকৃতিক উৎস থেকে নেওয়াই শ্রেয়।
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর কলম থেকেপরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম হাসপাতালসাম্মানিক অধ্যাপক, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

সোমবার, ২ মে, ২০১১

স্তন ক্যান্সার : যা জানা দরকার



ব্রেস্ট ক্যান্সার কেন হয় এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে এ ক্যান্সারের একাধিক কারণ রয়েছে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের জেনিটিক ফ্যাক্টরষ মা-খালাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে সন্তানদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ষ অবিবাহিত বা সন্তানহীনা মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি। ষ একইভাবে যারা সন্তানকে কখনও স্তন্য পান করাননি, তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার বেশি হয়। ষ ৩০ বছর পর যারা প্রথম মা হয়েছেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা একজন কমবয়সী মা হওয়া মহিলার থেকে অনেক বেশি। ষ বয়স যত বাড়ে, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বৃদ্ধি পায়। ষ অল্প সময়ে বাচ্চা নিলে, দেরিতে মাসিক শুরু হলে কিংবা তাড়াতাড়ি মাসিক বন্ধ হলে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়ে যায়। ষ একাধারে অনেক দিন জন্মনিরোধক বড়ি খেলেও স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
উপরোক্ত কারণগুলো ব্রেস্ট ক্যান্সারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে এগুলোই একমাত্র কারণ নয়।
স্তন ক্যান্সার কী করে বুঝবেন১. সাধারণত ৩০ বছরের আগে এই রোগ কম হয়। ২. বেশিরভাগ রোগী বুকে চাকা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। ৩. বুকে চাকা সেই সঙ্গে কিছু কিছু রোগী ব্যথার কথাও বলে থাকে। ৪. কখনও কখনও বুকে চাকা এবং বগলেও চাকা অনুভূত হয়। ৫. নিপল ডিসচার্জ এবং নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়াও এ রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। ৬. কিছু কিছু রোগী বুকে ফুলকপির মতো ঘা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে। ৭. অনেক সময় যে বুকে ব্যথা, সেদিকের হাত ফোলা নিয়েও আসতে পারে। ৮. এগুলো ছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সার দূরবর্তী কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে এমন উপসর্গ নিয়ে আসে; যেমন : হাড়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও জন্ডিস ইত্যাদি।কীভাবে রোগ নির্ণয় করা যাবে
১. মেমোগ্রাম বা স্তনের বিশেষ ধরনের এক্স-রে। ২. স্তনের আলট্রাসনোগ্রাম। ৩. চাকা বা টিউমার থেকে রস নিয়ে পরীক্ষা করলে এই রোগ ধরা পড়বে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারে কী কী চিকিত্সা আছেসম্ভব হলে সার্জারি করাই উত্তম। তাছাড়া কেমো থেরাপি, রেডিও থেরাপি, হরমোন থেরাপি ইত্যাদি চিকিত্সা রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত করা যায়১. ত্রিশ বছরের বেশি বয়স হলে নিজ নিজ ব্রেস্ট পরীক্ষা করতে হবে কোনো চাকা পাওয়া যায় কিনা। চাকা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ২. বয়স ৫০-এর উপরে হলে বছরে একবার মেমোগ্রাম করতে হবে। ৩. সন্দেহ হলে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে হবে।এই রোগ এড়ানোর উপায় কী?যেহেতু রোগটির নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি, তাই এই রোগ এড়ানোর জন্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেয়া হয় : ১. ত্রিশ বছর বয়স থেকে নিজে নিজেই ব্রেস্ট পরীক্ষা করুন। ২. রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে সে ক্ষেত্রে মেমোগ্রাফি করুন। যেমন : ফ্যামিলিতে ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে। ৩. ত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার চেষ্টা করুন। ৪. সন্তানকে বুকের দুধ পান করান।
৫. টাটকা শাক-সবজি ও ফল খান। ৬. সন্দেহ হলে ক্যান্সার সার্জনের শরণাপন্ন হন।
চিকিত্সা বাংলাদেশেই সম্ভবমনে রাখবেন প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিরূপণ হলে এবং চিকিত্সা করালে অনেকদিন সুস্থ থাকা যায়। সার্জারি করার সময় টিউমারটি বগলে লসিকা গ্রন্থিসহ অপসারণ করলে এই রোগ পুনরায় দেখা দেয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অসম্পূর্ণভাবে টিউমার অপসারণ করলে এই রোগ আবার হতে পারে। তবে এই রোগের চিকিত্সা এখন বাংলাদেশেই সম্ভব।
লেখক : জেনারেল ও কলোরেক্টাল সার্জনঅধ্যাপক, সার্জারি বিভাগঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসচেতনতাই সমাধানডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বলomio.ujjal@gmail.com
সারা পৃথিবীর হিসাব যদি আমরা ধরি তাহলে দেখা যাবে স্তন ক্যান্সার সব ক্যান্সারের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। আর যদি শুধু ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকার হিসাব ধরি তাহলে দেখা যাবে ওখানে স্তন ক্যান্সারই এক নম্বর। পৃথিবীতে যেসব ক্যান্সারে রোগী মারা যায় তার মধ্যে স্তন ক্যান্সার পঞ্চম। গত দশ বছরের গড় অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রতিবছর পাঁচ লাখেরও বেশি রোগী মারা যাচ্ছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। এই যে এতসব পরিসংখ্যান এর সবই মূলত বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যান্সারের ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য। এই ভয়াবহতা থেকে মুক্তি লাভের উপায়টিও কিন্তু খুব সহজ। সচেতনতা—শুধু সচেতনতাই পারে স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে। বলা হয়, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে পারলে স্তন ক্যান্সার ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। চলে গেল অক্টোবর ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা’র মাস। মিলিয়ে দেখা দরকার স্তন ক্যান্সার নিয়ে আমরা কতটা সচেতন? কতটা জানি এই রোগ সম্পর্কে?
পুরুষদেরও স্তন ক্যান্সার হয়স্তন ক্যান্সার কি শুধু নারীদেরই হয়? অনেকেই মনে করেন পুরুষদের বুঝি এই রোগ হয় না। আসলে এই রোগ পুরুষদেরও হয়, তবে খুব কম। পরিসংখ্যান বলে, প্রতি একশ’ স্তন ক্যান্সারের রোগীর মধ্যে একজন থাকে পুরুষ। তবে আক্রান্ত হলে নারী বা পুরুষ দু’জনেরই মৃত্যুর ঝুঁকি সমান। নারীদের মধ্যে কারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? যাদের ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস আছে অথবা যাদের মা ও বোনসহ নিকটাত্মীয় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা। দেখা গেছে, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনেরই এই রোগের পারিবারিক ইতিহাস আছে। যারা অস্বাভাবিক মোটা, অধিক চর্বিযুক্ত খাবার খান তারাও ঝুঁকির মধ্যে আছেন। বিলম্বে সন্তান ধারণ, সন্তানদের স্তন্যদান না করা, বন্ধ্যাত্ব স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। যে কোনো বয়সেই স্তন ক্যান্সার হতে পারে, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বাড়ে। ককেসিয়ান বা সাদা চামড়ার লোকদের এই রোগ তুলনামূলক বেশি হয়। তাই এশিয়া এবং আফ্রিকায় এই রোগটি তুলনামূলক কম।শুরতেই সচেতন হোনশুরুতেই যদি রোগটি ধরা পড়ে তাহলে চিকিত্সা অনেক সহজ আর ফলপ্রসূ হয়। আর শুরুতেই যাতে রোগটি ধরা যায় তার জন্য কিছু সচেতনতা আর নিয়ম মেনে চলতে হবে। যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছর তারা অন্তত মাসে একদিন নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করবেন। এটাকে বলা হয় ‘সেলফ স্ক্রিনিং টেস্ট’। শতকরা ৮০ ভাগ স্তন ক্যান্সার এভাবেই নির্ণয় করা সম্ভব। যাদের বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি তারা বছরে একবার চিকিত্সক দিয়ে স্তন পরীক্ষা করাবেন। বছরে অন্তত একবার ম্যামোগ্রাম করুন। মিলিয়ে দেখুন, ওপরের একটি নিয়মও কি আপনি পালন করছেন?
যখন ছড়িয়ে পড়েস্তন ক্যান্সার যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন আমরা তাকে বলি ‘মেটাস্ট্যাটিক ব্রেস্ট ক্যান্সার’। এটা খুব ভয়াবহ। সাধারণত ছড়ায় হাড়, ফুসফুস, যকৃত এবং মস্তিষ্কে। কখনও কখনও এসব ছড়িয়ে পড়া অঙ্গ থেকেই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পায়।
সচেতনতা দিয়ে অনেক রোগকেই রোধ করা যায়। স্তন ক্যান্সার এমনি একটি রোগ যার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। তাই আসুন, সচেতনতা দিয়ে স্তন ক্যান্সারের মত প্রানঘাতি রোগকে রোধ করি।





ডা. এমএ হাসেম ভূঁঞা