সোমবার, ২ মে, ২০১১

স্তন ক্যান্সার : যা জানা দরকার



ব্রেস্ট ক্যান্সার কেন হয় এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে এ ক্যান্সারের একাধিক কারণ রয়েছে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের জেনিটিক ফ্যাক্টরষ মা-খালাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে সন্তানদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ষ অবিবাহিত বা সন্তানহীনা মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি। ষ একইভাবে যারা সন্তানকে কখনও স্তন্য পান করাননি, তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার বেশি হয়। ষ ৩০ বছর পর যারা প্রথম মা হয়েছেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা একজন কমবয়সী মা হওয়া মহিলার থেকে অনেক বেশি। ষ বয়স যত বাড়ে, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বৃদ্ধি পায়। ষ অল্প সময়ে বাচ্চা নিলে, দেরিতে মাসিক শুরু হলে কিংবা তাড়াতাড়ি মাসিক বন্ধ হলে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়ে যায়। ষ একাধারে অনেক দিন জন্মনিরোধক বড়ি খেলেও স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
উপরোক্ত কারণগুলো ব্রেস্ট ক্যান্সারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে এগুলোই একমাত্র কারণ নয়।
স্তন ক্যান্সার কী করে বুঝবেন১. সাধারণত ৩০ বছরের আগে এই রোগ কম হয়। ২. বেশিরভাগ রোগী বুকে চাকা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। ৩. বুকে চাকা সেই সঙ্গে কিছু কিছু রোগী ব্যথার কথাও বলে থাকে। ৪. কখনও কখনও বুকে চাকা এবং বগলেও চাকা অনুভূত হয়। ৫. নিপল ডিসচার্জ এবং নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়াও এ রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। ৬. কিছু কিছু রোগী বুকে ফুলকপির মতো ঘা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে। ৭. অনেক সময় যে বুকে ব্যথা, সেদিকের হাত ফোলা নিয়েও আসতে পারে। ৮. এগুলো ছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সার দূরবর্তী কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে এমন উপসর্গ নিয়ে আসে; যেমন : হাড়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও জন্ডিস ইত্যাদি।কীভাবে রোগ নির্ণয় করা যাবে
১. মেমোগ্রাম বা স্তনের বিশেষ ধরনের এক্স-রে। ২. স্তনের আলট্রাসনোগ্রাম। ৩. চাকা বা টিউমার থেকে রস নিয়ে পরীক্ষা করলে এই রোগ ধরা পড়বে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারে কী কী চিকিত্সা আছেসম্ভব হলে সার্জারি করাই উত্তম। তাছাড়া কেমো থেরাপি, রেডিও থেরাপি, হরমোন থেরাপি ইত্যাদি চিকিত্সা রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত করা যায়১. ত্রিশ বছরের বেশি বয়স হলে নিজ নিজ ব্রেস্ট পরীক্ষা করতে হবে কোনো চাকা পাওয়া যায় কিনা। চাকা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ২. বয়স ৫০-এর উপরে হলে বছরে একবার মেমোগ্রাম করতে হবে। ৩. সন্দেহ হলে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করতে হবে।এই রোগ এড়ানোর উপায় কী?যেহেতু রোগটির নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি, তাই এই রোগ এড়ানোর জন্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেয়া হয় : ১. ত্রিশ বছর বয়স থেকে নিজে নিজেই ব্রেস্ট পরীক্ষা করুন। ২. রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে সে ক্ষেত্রে মেমোগ্রাফি করুন। যেমন : ফ্যামিলিতে ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে। ৩. ত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার চেষ্টা করুন। ৪. সন্তানকে বুকের দুধ পান করান।
৫. টাটকা শাক-সবজি ও ফল খান। ৬. সন্দেহ হলে ক্যান্সার সার্জনের শরণাপন্ন হন।
চিকিত্সা বাংলাদেশেই সম্ভবমনে রাখবেন প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিরূপণ হলে এবং চিকিত্সা করালে অনেকদিন সুস্থ থাকা যায়। সার্জারি করার সময় টিউমারটি বগলে লসিকা গ্রন্থিসহ অপসারণ করলে এই রোগ পুনরায় দেখা দেয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অসম্পূর্ণভাবে টিউমার অপসারণ করলে এই রোগ আবার হতে পারে। তবে এই রোগের চিকিত্সা এখন বাংলাদেশেই সম্ভব।
লেখক : জেনারেল ও কলোরেক্টাল সার্জনঅধ্যাপক, সার্জারি বিভাগঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসচেতনতাই সমাধানডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বলomio.ujjal@gmail.com
সারা পৃথিবীর হিসাব যদি আমরা ধরি তাহলে দেখা যাবে স্তন ক্যান্সার সব ক্যান্সারের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। আর যদি শুধু ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকার হিসাব ধরি তাহলে দেখা যাবে ওখানে স্তন ক্যান্সারই এক নম্বর। পৃথিবীতে যেসব ক্যান্সারে রোগী মারা যায় তার মধ্যে স্তন ক্যান্সার পঞ্চম। গত দশ বছরের গড় অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রতিবছর পাঁচ লাখেরও বেশি রোগী মারা যাচ্ছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। এই যে এতসব পরিসংখ্যান এর সবই মূলত বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যান্সারের ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য। এই ভয়াবহতা থেকে মুক্তি লাভের উপায়টিও কিন্তু খুব সহজ। সচেতনতা—শুধু সচেতনতাই পারে স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে। বলা হয়, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে পারলে স্তন ক্যান্সার ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। চলে গেল অক্টোবর ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা’র মাস। মিলিয়ে দেখা দরকার স্তন ক্যান্সার নিয়ে আমরা কতটা সচেতন? কতটা জানি এই রোগ সম্পর্কে?
পুরুষদেরও স্তন ক্যান্সার হয়স্তন ক্যান্সার কি শুধু নারীদেরই হয়? অনেকেই মনে করেন পুরুষদের বুঝি এই রোগ হয় না। আসলে এই রোগ পুরুষদেরও হয়, তবে খুব কম। পরিসংখ্যান বলে, প্রতি একশ’ স্তন ক্যান্সারের রোগীর মধ্যে একজন থাকে পুরুষ। তবে আক্রান্ত হলে নারী বা পুরুষ দু’জনেরই মৃত্যুর ঝুঁকি সমান। নারীদের মধ্যে কারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? যাদের ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস আছে অথবা যাদের মা ও বোনসহ নিকটাত্মীয় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা। দেখা গেছে, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনেরই এই রোগের পারিবারিক ইতিহাস আছে। যারা অস্বাভাবিক মোটা, অধিক চর্বিযুক্ত খাবার খান তারাও ঝুঁকির মধ্যে আছেন। বিলম্বে সন্তান ধারণ, সন্তানদের স্তন্যদান না করা, বন্ধ্যাত্ব স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। যে কোনো বয়সেই স্তন ক্যান্সার হতে পারে, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বাড়ে। ককেসিয়ান বা সাদা চামড়ার লোকদের এই রোগ তুলনামূলক বেশি হয়। তাই এশিয়া এবং আফ্রিকায় এই রোগটি তুলনামূলক কম।শুরতেই সচেতন হোনশুরুতেই যদি রোগটি ধরা পড়ে তাহলে চিকিত্সা অনেক সহজ আর ফলপ্রসূ হয়। আর শুরুতেই যাতে রোগটি ধরা যায় তার জন্য কিছু সচেতনতা আর নিয়ম মেনে চলতে হবে। যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছর তারা অন্তত মাসে একদিন নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করবেন। এটাকে বলা হয় ‘সেলফ স্ক্রিনিং টেস্ট’। শতকরা ৮০ ভাগ স্তন ক্যান্সার এভাবেই নির্ণয় করা সম্ভব। যাদের বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি তারা বছরে একবার চিকিত্সক দিয়ে স্তন পরীক্ষা করাবেন। বছরে অন্তত একবার ম্যামোগ্রাম করুন। মিলিয়ে দেখুন, ওপরের একটি নিয়মও কি আপনি পালন করছেন?
যখন ছড়িয়ে পড়েস্তন ক্যান্সার যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন আমরা তাকে বলি ‘মেটাস্ট্যাটিক ব্রেস্ট ক্যান্সার’। এটা খুব ভয়াবহ। সাধারণত ছড়ায় হাড়, ফুসফুস, যকৃত এবং মস্তিষ্কে। কখনও কখনও এসব ছড়িয়ে পড়া অঙ্গ থেকেই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পায়।
সচেতনতা দিয়ে অনেক রোগকেই রোধ করা যায়। স্তন ক্যান্সার এমনি একটি রোগ যার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। তাই আসুন, সচেতনতা দিয়ে স্তন ক্যান্সারের মত প্রানঘাতি রোগকে রোধ করি।





ডা. এমএ হাসেম ভূঁঞা





মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১১

*-* দুই ঘণ্টার বেশি টিভি দেখলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে



টিভি দেখার জন্য যে আপনাকে হৃদঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে তা কি কস্মিনকালেও ভেবেছিলেন? না ভেবে থাকলে এখন ভাবা শুরু করুন। কারণ ব্রিটেনের একদল গবেষক জানিয়েছেন, যারা প্রতিদিন দুই ঘণ্টা ব তারও বেশি সময় ধরে টেলিভিশন দেখেন, তাদের হৃদরোগের আশঙ্কা বেশি।
গবেষণা দলের প্রধান ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের গবেষক ড. ইমানুয়েল স্টামাটাকিস এর ওপর একটি গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গভীরভাবে দেখেছি মানুষ তার কাজ শেষ করার পর কীভাবে তাদের সময় কাটাতে পছন্দ করে এবং আমাদের স্বাস্থের ওপর এসবের প্রভাব কী?’
স্কটিশ হেলথ সার্ভে অব হাউজহোল্ডার নামের একটি সংগঠনের ৪ হাজার ৫১২ জন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির ওপর গবেষণা করেছেন এ গবেষক ।
তুলনা করে দেখা গেছে, যারা দিনে দুই ঘণ্টার কম টিভি দেখে তাদের চেয়ে যারা দিনে চার ঘণ্টা বা তার বেশি সময় টিভি দেখে তাদের ৪৮ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকি বেশি। হৃদরোগ বা এ ধরনের রোগের জন্যও তারা ১২৫ শতাংশ ঝুঁকিতে থাকে।

*-* বুড়িয়ে যাওয়া রোধে ১৫ মিনিটের ব্যায়াম



বুড়িয়ে যাওয়া রোধে ১৫ মিনিটের ব্যায়াম
বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে ১৫ মিনিটের ব্যায়ামই যথেষ্ট। এ জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন ১৫ মিনিটের একটি পরিশ্রমী ব্যায়াম অথবা শরীর থেকে ঘাম ঝরে এমন কোন শ্রমসাধ্য কাজ। সামপ্রতিক গবেষণায় এমন তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। ক্রমাগত মানসিক বা শারীরিক চাপ এবং শরীরের প্রয়োজনীয় অনেক কোষের ক্ষয়ের কারণে মানুষের মনে এবং শরীরে বার্ধক্য বাসা বাঁধে।
গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত ১৫ মিনিটের ব্যায়াম বা ঘাম ঝরানো পরিমিত মাত্রার পরিশ্রমে এই বার্ধক্যের গতি অনেকটাই কমে যায়। শরীরকে বেশি আরাম না দিয়ে একটু খাটিয়ে নিলেই লাভ, মনস্তত্ত্ববিদ ইলি পুটারম্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনটিই জানিয়েছে এক্সপ্রেস ডট কোর ডট ইউকে।

*-* বুড়িয়ে যাওয়া কমায় আঙুর



আঙুরের মধ্যে নানা খাদ্য ও ভেষজগুণের সন্ধান পেয়েছেন চিকিত্সা বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। তারা এটিকে একদিকে খাদ্য হিসেবে অন্যদিকে ভেষজ শিল্পেও ব্যবহার করছেন। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এই ফলটি পাওয়া যায়। এর প্রায় ৭৯ শতাংশই পানি। এছাড়া এতে ফ্রুকটোজ এবং খনিজ উপাদানসহ দেহের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান আছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইনকোনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি আঙুরে এক ধরনের লোহিত উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন। ‘রেজভারেট্রল’ নামের এই রাসায়নিক উপাদান হৃিপণ্ড এবং রক্তনালীগুলোকে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। কম ক্যালোরিযুক্ত এ লোহিত উপাদান আয়ু বাড়ায় এবং বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে কমিয়ে দেয়। এছাড়া ভিটামিন এ, বি এবং সি ছাড়াও রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লৌহ, আয়োডিন এবং ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান। আঙুরের ফ্রুকটোজ সহজে রক্তে প্রবেশ করতে পারে এবং একে গুরুত্বপূর্ণ শর্করা হিসেবে গণ্য করা হয়।
চিকিত্সা ও পুষ্টিবিদরা আঙুর, খেজুর এবং কিশমিশকে পূর্ণাঙ্গ খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করেন। এ তিনটি খাদ্য থেকে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাওয়া যায়। আঙুরের মতো ফল দেহের প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করতে পারে। তাই অল্প পরিমাণে আঙুর বা কিশমিশ খেয়ে মানুষ দৈহিক ও মানসিক পরিশ্রমের জন্য প্রচুর শক্তি পেতে পারেন।আঙুর হতাশা প্রতিহত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে দুঃখ-বেদনা, মানসিক পীড়ন ও বিষণ্নতা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে আঙুর বিশেষ ফলদায়ক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।আধুনিককালের চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা কালো আঙুরে হতাশা বা বিষণ্নতা প্রতিরোধক উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন। এ ধরনের আঙুরে পটাশিয়াম আছে। আর তাই হতাশা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে এ আঙুর। বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গও দূর করতে সাহায্য করে পটাশিয়াম। এই উপাদান বিষণ্নতা দূর করে সুখ এবং আনন্দের একটি অনুভূতি সৃষ্টি করে। আঙুর রক্ত পরিশোধন, উচ্চরক্তচাপ, ডায়রিয়া ও ত্বকের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
ত্বকের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য মুখে ভেষজ বা ভেষজ নয় এমন ‘মাস্ক’ ব্যবহার করা হয়। আঙুরের নির্যাস থেকে সহজেই প্রাকৃতিক ‘মাস্ক’ তৈরি করা যেতে পারে। এ ধরনের ‘মাস্ক’ ব্যবহারে মুখের বলি রেখা দূর হতে পারে।
আঙুর শুকিয়ে তৈরি হয় কিশমিশ এবং কিশমিশে ৬০ শতাংশ ফ্রুকটোজ রয়েছে।
ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত ‘ক্যামেস্ট্রি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ নামের সাময়িকীতে বলা হয়েছে, কিশমিশে এমন কিছু শক্তিশালী উপাদান আছে যা আলঝেইমার্স রোগ প্রতিহত করতে সহায়তা করে। বীচিবিহীন আঙুর থেকে তৈরি কিশমিশে ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে ।
বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম

*-* মাছ হৃদরোগ,ডায়াবেটিস,স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়



মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধরা যারা নিয়মিত মাছ খান তাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি গবেষণায় একথা বলা হয়েছে। মাছ যারা কম খান তাদের তুলনায় যারা প্রতিদিন মাছ খান তারাই এ উপকার পাবেন বলে গবেষণায় জানানো হয়েছে।
তবে খাদ্যতালিকায় মাছ থাকার কারণেই এ উপকার পাওয়া যায় কিনা তা এ গবেষণা থেকে নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
কিন্তু গবেষকরা বলছেন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড স্যামন, ম্যাকেরেল এবং আলবাকোর টুনা মাছে প্রচুর পরিমাণ থাকে যা হার্টের জন্য উপকারী হতে পারে।
ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ রক্তের ট্রিগলিকেরিডস নামক চর্বি কমাতে সহায়ক।
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ- এর গবেষকরা আরো বলেছেন, মাছের তেল রক্ত চাপ কমায় এবং হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক ৩ হাজার ৫শ কোরীয়র ওপর নতুন এ গবেষণা পরিচালনায় দেখা গেছে, যারা মাছ কম খেয়েছে তাদের তুলনায় যারা প্রতিদিন মাছ খেয়েছে তাদের ক্ষেত্রে তিন বছরে ‘মেটাবোলিক সিনড্রম’ (ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকাক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ) দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ৫৭ শতাংশ কম প্রমাণিত হয়েছে।

*-* পাকা কলা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়



পাকা কলার অনেক গুণ। পাকা কলা খেতে শুধু যে সুস্বাদু তাই নয়,পাকা কলার ভেষজ গুণও অসামান্য। শরীর ও মনকে নিমেষেই ঝরঝরে করে দেয়, অসুস্থতাও কমায় । বিজ্ঞানীরাও জোরেশোরে সেই কথাই বলছেন। তারা বলছেন, পাকা কলা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুলাংশে কমায়। তাই সকালের নাস্তায় এবং দুপুর ও নৈশ ভোজে অন্তত একটি করে কলা খান। ফলে শরীর প্রচুর পটাশিয়াম পাবে, মস্তিস্ক রক্ত চলাচলে জমাট বদ্ধতার ঝুঁকি ২১ শতাংশ কমে যাবে।
ব্রিটিশ ও ইটালিয়ান গবেষকদের এই সমীক্ষায় এটাও স্পষ্ট হয়েছে যে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ অন্যান্য খাদ্য যেমন সবজি, বাদাম, দুধ, মাছ, ডাল খেয়েও স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তবে পূর্বেকার সমীক্ষায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও স্ট্রোক রুখতে কলার কথা গুরুত্বের সাথে বলা হলেও কলা নিয়ে এতদিন তেমন গবেষণা চলেনি। সর্বশেষ গবেষণাটি আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওগ্রাফির সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞানীরা ৬০ এর দশক থেকে এ যাবৎ প্রাপ্ত সকল সমীক্ষা খতিয়ে দেখে সর্বশেষ এ ফলাফল প্রকাশ করেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দৈনিক ১৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম গ্রহণ করলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি এক পঞ্চমাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। ইতিপূর্বে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য দৈনিক পটাশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার মিলিগ্রাম নির্ধারণ করেছিলেন। প্রতিটি কলায় গড়ে প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম রয়েছে। যা শরীরে রক্তচাপ কমিয়ে আনে ও পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। উল্লেখ্য, শরীরে পটাশিয়াম কমে গেলে অনিয়মিত হার্টবিট, খিচুনি, অনিদ্রা ও ডায়রিয়ার মতো অসুখ দেখা দেয়।

*-* কোলেস্টেরলের কিছু তথ্য



কোলেস্টেরল কী?কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের পিচ্ছিল চর্বি জাতীয় জিনিস যা নতুন কোষ তৈরি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। যদি কেউ উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার বা বেশি মাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার খায়, কিংবা তার শরীরের ধারা এমন যে দেহ বেশি কোলেস্টেরল তৈরি করে, তাহলে তার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকবে। কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে ধমনী বা রক্তবাহী নালিগুলো শক্ত হয়ে যায়। এটি ঘটে যখন চর্বি এবং ক্যালসিয়াম ধমনীর ভেতরে জমতে শুরু করে। জমতে জমতে এরা ধমনীর মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি শুরু করে। অন্তিম ক্ষেত্রে চলাচল রুদ্ধ করে দেয়। এর ফলে করোনারি আর্টারি রোগে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
দেহে কোলেস্টেরল আসে দুটি জায়গা থেকে : আমাদের খাবার থেকে আর দেহের যকৃত যা সৃষ্টি করে তার থেকে। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় আশি ভাগ কোলেস্টেরলই যকৃত সৃষ্টি করতে পারে।
কোলেস্টেরল বেশি কথাটার অর্থ কী?রক্ত পরীক্ষা করে কোলেস্টেরলের পরিমাণ মাপা যায়। সেখান থেকে বোঝা যায় কোলেস্টেরলের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত কিনা। কোলেস্টেরল মাপা হয় প্রতি ডেসিলিটারে কত মিলিগ্রাম আছে এই হিসেবে (mg/dL)। অনেক সময় প্রতি লিটারে কত মিলিমোল আছে (mmo/L) সেই হিসেবেও মাপা হয়।
এলডিএল এবং এইচডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসেরাইডস কী?কোলেস্টেরল রক্তের মধ্যে বাহিত হয় প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায়। এই সংযুক্ত কোলেস্টেরল-প্রোটিনকে বলা হয় লিপোপ্রোটিন। লিপোপ্রোটিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়—বেশি ঘনত্বের (high density), কম ঘনত্বের (low density) বা খুব কম ঘনত্বের (very low density)। লিপোপ্রোটিন কোন শ্রেণীতে পড়বে তা নির্ভর করে প্রোটিনের তুলনায় চর্বির পরিমাণ কতটা। যদি প্রোটিনের তুলনায় চর্বি বেশি থাকে তাহলে তাকে low-density lipoprotein (LDL) কোলেস্টেরল বলা হয়। খউখ হলো ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল, কারণ এটি রক্তবাহী ধমনীর দেয়ালে জমে নালিপথ রুদ্ধ করে দিতে পারে। LDL-এর পরিমাণ কমাতে পারলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির সম্ভাবনা কমানো যায়।
High-density lipoprotein cholesterol (HDL) কে অনেক সময় বলা হয় ‘ভালো’ কোলেস্টেরল, কারণ এটি রক্তবাহী নালিতে কোলেস্টেরল না জমতে সাহায্য করে। এতে ফ্যাটের তুলনায় প্রোটিন বেশি থাকে। HDL কোলেস্টেরল পরিমাণ বেশি থাকাটা যাদের হার্টের রোগী বা যাদের হার্টের অসুখের সম্ভাবনা আছে তাদের পক্ষে ভালো।
ট্রাইগ্লিসারাইডস হলো আরেক ধরনের চর্বিজাতীয় পদার্থ যেটি খুব কম ঘনত্বের লিপোপ্রোটিনের মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। রক্তে খুব অল্প পরিমাণেই ট্রাইগ্লিসারাইডস থাকে, বেশিরভাগই জমা থাকে টিস্যুর মধ্যে। LDL যখন বেশি আছে, তখন ট্রাইগ্লিসারাইডসও বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
কোলেস্টেরল কেন বেশি হয়?নানা কারণে কোলেস্টেরল বেশি হতে পারে; কিছু কারণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য, কতগুলো নয়।যেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেগুলো হলো—অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, এক্সারসাইজের অভাব, বেশি কোলেস্টেরল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার। এগুলো বাজে কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারয়েডকে বাড়ায়, HDL-কে কমায়।
যেগুলো নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, তার মধ্যে একটি হলো জন্মগত সমস্যা, ‘লিপিড ডিসঅর্ডার’। এছাড়া বয়স, পুরুষ না স্ত্রী—এগুলোরও কোলেস্টেরলের ওপর প্রভাব আছে। যেমন—২০ বছরের পর থেকে দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথম দিকে পুরুষদের কোলেস্টেরলের মাত্রা নারীদের থেকে বেশি থাকে; কিন্তু ৫০ বা তার কাছাকাছি বয়স থেকে নারীদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। বয়ঃসন্ধির পর নারীদের ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা পুরুষদের থেকে সাধারণত বেশি থাকে ইত্যাদি। এছাড়া কোলেস্টেরলের ওপর ওষুধেরও কিছু প্রভাব আছে।রক্ত পরীক্ষা করে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিরূপণ করা যায়। যদি কোলেস্টরলের পরিমাণ অত্যধিক হয়, তাহলে ডাক্তাররা জীবনযাত্রা পরিবর্তন করার (যেমন—কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান কমানো বা বন্ধ করা) নির্দেশ দেন। শুধু জীবনযাত্রার পরিবর্তন কোলেস্টেরল না কমাতে পারলে ডাক্তাররা ওষুধ ব্যবহার করেন।




কোলস্টেরল কমানোর ঊপায় ০১





হৃদরোগ বা হার্টের যেকোনো রোগের অন্যতম প্রধান কারণ দেহে কোলেস্টেরলের আধিক্য, অত্যধিক দুশ্চিন্তা ও অতিমাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ। ডিমের কুসুম, যকৃত, মস্তিষ্ক, চর্বিযুক্ত গোশত, দুগ্ধ, চিংড়ি প্রভৃতিতে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল রয়েছে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ধীরে ধীরে হৃদরোগের সৃষ্টি করে। কোলেস্টেরল রক্তকে ভারী করে এবং কৌশিক জালিকার গায়ে জমা হয়ে নালীপথ সরু করে দেয়। ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় ও প্লাক তৈরি করে। এতে রক্ত চলাচল বìধ হলে হৃদযন্ত্রের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যায় এবং হৃৎপিণ্ডের কার্য বìধ হয়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।তাই দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। কোলেস্টেরল দেহে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই সহজ। প্রয়োজন শুধু সচেতনতা। তেল বা চর্বি জাতীয় খাদ্য খুবই মুখরোচক, কিন্তু এগুলোই শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। তেল জাতীয় বা ভাজাপোড়া জিনিস কম খাওয়া, চিংড়ি, ডিমের কুসুম প্রভৃতি খাবার এড়িয়ে চলা। এর পরিবর্তে দৈনিক খাদ্য তালিকায় একটু করে হলেও আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়া। যেমন ইসুবগুলের ভুসি, কচুর লতি, ডাঁটা, বিভিন্ন শাক প্রভৃতি। এগুলো রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। ইন্টারনেট।





কোলস্টেরল কমানোর ঊপায় ০২





ডা. এ.আর.এম সাইফুদ্দীন একরামআপনার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কত? আপনি যদি পাঁচ বছর আগে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখে থাকেন এবং সেটার পরিমাণ স্বাভাবিক ছিল বলে আনন্দিত হন; তাহলে কিন্তু ভুল হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। চিকিৎসকগণ বলেন যাদের বয়স কুড়ি বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি তাদের রক্ত প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত একবার পরীৰা করে দেখা উচিত।
কারও রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা যদি ২০০ মিগ্রা./ডেসিলিটারের বেশি হয় কিংবা কম ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরলের (ৰতিকর কোলেস্টেরল) মাত্রা ১০০ মি.গ্রা/ডেসিলিটারের বেশি হয় তাহলে এগুলোর পরিমাণ কমানো উচিত। সাধারণত জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করে এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ সেবন করে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এগুলোর পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থায় নামিয়ে আনা যায়।
রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। এ জন্য যে কেউ নিচের এগারোটি সহজ কৌশল অনুসরণ করে উপকৃত হতে পারেন।
১. প্রথমে কোলেস্টেরলের কাঙ্ৰিত মাত্রা ঠিক করম্নন।আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কত এবং আপনি কতটুকু কমাতে চান। এটা অনেকগুলো উপাদানের ওপর নির্ভর করে। যেমন পরিবারের বাবা-মায়ের হৃদরোগের ইতিহাস আছে কি না এবং আপনার হৃদরোগ হওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে কিনা যেমন_ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের অভ্যাস, অতিরিক্ত মেদ-ভুঁড়ি ইত্যাদি। যাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তাদের কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল বা ৰতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা ৭০ মি.গ্রা./ডেসিলিটারের নিচে থাকা উচিত। আর যাদের হৃদরোগের কোন ঝুঁকি উপাদান নেই তাদের ১৬০ মি.গ্রা./ডেসিলিটারের নিচে রাখা যেতে পারে। আজ-কাল যাদের হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে তাদের ৰতিকারক কোলেস্টেরল যত শীঘ্রই কমানো যায় ততই মঙ্গল বলে মনে করা হয়।২. প্রয়োজন হলে ওষুধ সেবন করতে হবে।যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি তাদের অবশ্যই জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু যদি হৃদরোগের নমুনা থাকে তাহলে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করতে হবে। এ সকল ৰেত্রে ধূমপান পরিহার করা এবং ওজন কমানো যেমন জরম্নরী তেমন ওষুধ সেবন করাও দরকার। জীবনাচরণ পদ্ধতির পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রম্নত স্বাভাবিক হয়ে আসে। চিকিৎসকগণ কোলেস্টেরল কমানোর জন্য নানা রকম ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। যেমন_নিয়াসিন ফাইব্রেটস, স্টেটিনস ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে স্টেটিন জাতীয় ওষুধ বেশি জনপ্রিয়। স্টেটিন রক্তের ৰতিকারক কোলেস্টেরল ২০%-৫০% কমাতে পারে।
৩. হাঁটুন এবং ব্যায়াম করম্নন।শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম শুধু রক্তে ৰতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় তাই নয়, উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ (বেশি ঘনত্বের লিপ্রোপ্রোটিন কোলেস্টেরল) ১০% বাড়ায়। মাঝারি পরিমাণ ব্যায়াম কিংবা জোরে জোরে হাঁটলেও এমন উপকার পাওয়া যায়। এ জন্য সকল চিকিৎসকের পরামর্শ নৈশভোজের পরে কমপৰে ৪৫ মিনিট হাঁটুন। কেউ যদি প্রতিদিন দশ হাজার সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা করেন তাহলে উপকৃত হবেন। আর কেউ যদি অফিসে চাকরি করেন তার উচিত প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ মিনিট হাঁটা চলাফেরা করা। আপনি যে ধরনের ব্যায়াম করেন না কেন তা নিয়মিত করতে হবে। সপ্তাহে সাত দিন ব্যায়াম করতে পারলে তো খুবই ভাল। অন্যথায় কমপৰে পাঁচ দিন ব্যায়াম করতে হবে।
৪. চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করম্নন।কোলেস্টেরল কমানোর একটি সহজ উপায় হচ্ছে ডিমের কুসুম এবং অন্যান্য বেশি কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার পরিহার করা। তবে এটাও ঠিক যে, খাবারের কোলেস্টেরলই রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র দায়ী নয়। মানুষের শরীরের মধ্যে প্রতিদিন কোলেস্টেরল তৈরিও হয়ে থাকে। যে সকল খাবারে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি সে সকল খাবারই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। এ জন্য সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন মাখন, চর্বিযুক্ত গরম্ন ও খাসির মাংস ইত্যাদির পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাইয়ের তেল, মাছ ইত্যাদি বেশি খাওয়া উচিত।
৫. অাঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খান।যে কোন ধরনের সবজি এবং ফলমূল শরীরের জন্য উপকারী। এরা রক্তে কোলেস্টেরলও কমায়। বিশেষত দ্রবনীয় অাঁশ পরিপাক নালী থেকে স্পঞ্জের মতো কোলেস্টেরল শুষে নেয়। শিম, বার্লি ও ওট ইত্যাদি জাতীয় খাবারে প্রচুর অাঁশ থাকে।৬. বেশি করে মাছ খান।মাছ এবং মাছের তেল কোলেস্টেরল কমাতে পারে। এর ভেতরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড থাকে। এটা খুব সহজে রক্ত থেকে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য ৰতিকর চর্বি কমিয়ে ফেলে। প্রত্যেকেরই সপ্তাহে অনত্মত দুই থেকে তিনবার মাছ খাওয়া উচিত। অধিকাংশ মাছেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড থাকে। যদি কেউ মাছ খেতে না পারেন তিনি মাছের তেল থেকে তৈরি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিডসমৃদ্ধ ক্যাপসুল চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক সেবন করতে পারেন। বিভিন্ন উদ্ভিদজাত খাবারেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড পাওয়া যায়। যেমন-সয়াবিন তেল, কাঠ বাদামের তেল ইত্যাদি।৭. মদ্যপান পরিহার করম্নন।অতিরিক্ত এ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান শরীরের জন্য ৰতিকর। অতএব, অতিরিক্ত মদ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।
৮. গ্রীন টি সেবন করম্নন।বিভিন্ন পর্যবেৰণে দেখা যাচ্ছে যে, সবুজ চা (গ্রীন টি)-এর ভিতরে রক্তের ৰতিকারক কোলেস্টেরল কমানোর উপাদান রয়েছে। সবুজ চা সেবন হৃৎপি-ের জন্য উপকারী।৯. বাদাম খান।বিভিন্ন পর্যবেৰণে প্রমাণিত হয়েছে যে, বাদাম খেলে রক্তের কোলেস্টেরল কমে। বিশেষত কাঠ বাদাম এবং কাজু বাদাম উপকারী। বাদামে প্রচুর ক্যালরি রয়েছে। এজন্য পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়া উচিত।
১০. ধূমপান পরিহার করম্নন।ধূমপান করলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরল বা বেশি ঘনত্বের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। অতএব, রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে।
১১. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। অতএব, রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকা শরীরের জন্য ৰতিকর। আমাদের সকলের উচিত কোলেস্টেরল সম্পর্কে জানা। উপরের এগারোটি সহজ কৌশল মেনে চললে আমরা রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব। প্রয়োজনে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লেখক : অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ও বিভাগীয় প্রধান,মেডিসিন বিভাগরাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী।





কোলস্টেরল কমানোর ঊপায় ০৩





জন্মমুহূর্তে মুখে মধু দেয়ার বিষয়ে ডাক্তারের কড়া নিষেধাজ্ঞা অনেকেই মানছেন। তবে সারা জীবন মধু খেতে আপত্তি নেই। গবেষণা বলছে, মধু ও বাদামে রয়েছে ফল এবং সবজির সব গুণাগুণ, যা শরীরে কোলেস্টেরল রুখতে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণা বলছে, কাজু বাদামও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।কলা কমায়স্ট্রোকের ঝুঁকিযাদের খাদ্য তালিকায় পটাশিয়ামের মাত্রা কম তাদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আমেরিকান মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক প্রবìেধ বিজ্ঞানীরা এ কথা জানান। তবে এ ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পটাশিয়ামসমৃদ্ধ ফল কলা সংযোগ করে।যমজ শিশু জন্মে ঝুঁকিযমজ শিশু জন্ম নেয়ার সময় সিজারিয়ান অপারেশনকে শ্রেয় মনে করছেন ডাক্তাররা। ভূমিষ্ঠ দ্বিতীয় শিশুটির ওপরই চাপ পড়ে। যুক্তরাজ্যের ডাক্তাররা তথ্য প্রমাণসাপেক্ষে বলেছেন, স্বাভাবিক জন্মপ্রক্রিয়ায় যে সময় এবং জটিলতা দেখা দিতে পারে তার পুরো সমস্যা গিয়ে দ্বিতীয় শিশুটির ওপর পড়ে। এমনকি দ্বিতীয় শিশুর ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি আট গুণ বেশি।স্মৃতিভ্রম রুখবে মাছব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, যারা সপ্তাহে অন্ততপক্ষে একবারো মাছ খান তাদের ক্ষেত্রে অ্যালঝাইমার বা স্মৃতিভ্রমসংক্রান্ত ঝুঁকি তিন ভাগ কমে যায়।